বাংলাদেশ আসলেই কি স্বাধীন একটা দেশ?
আমরা কি আসলেই স্বাধীন দেশে বসবাস করছি?
এই কথা শুনে হয়তো অনেকেই আমাকে পাগল বলতে পারেন বা দেশদ্রোহী বা রাজাকার বলতে পারেন। কিন্তু আমার কথাগুলো একবার মনোযোগ দিয়ে ভেবে দেখুন আর উপলব্ধি করুন আমার কথাগুলো ঠিক নাকি ভুল।
আমাদের বাংলাদেশ কি আসলেই স্বাধীন একটি ভূখন্ড নাকি ভারতের কলকাতা, চেন্নাই, গুজরাট ইত্যাদি রাজ্যের মতো বাংলাদেশও একটি ভারতের উপরাষ্ট্য মাত্র।
একবার আমাকে পাগল ভেবে গালিগালাজ না দিয়ে মনোযোগ দিয়ে আমার লেখাগুলো পড়ে দেখুন:
★আমরা নিজের স্বাধীন রাষ্ট্র বলে চিল্লালেও আমরা পত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারতকে ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারি না। আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি সেটাও ভারতের জন্যই। তবে পাকিস্তানীদের সাথে ভারতের শত্রুতা আছে বলেই ভারত আমাদের সাহায্য করেছিল। তা না হলে একবার ভেবে দেখুন ভারত আমাদের কেনো আমাদের সাহায্য করবে। তাদের কি লাভ হতো আমাদের সাহায্য করে! শুধুমাত্র পাকিস্তান ভারতের শত্রু বলেই পাকিস্তানের হাত থেকে যেনো জমি কমে যায় এ জন্য ভারত আমাদের সাহায্য করেছিল।
★আমরা বিনোদন থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বাস হলো না আপনারাই তার প্রমাণ। আপনাদের সকলের মা-বোন স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি টিভি নিয়ে পড়ে থাকে যা ভারতের চ্যানেল। আবার আমরা ছেলে কয়জনই বা নিজের দেশের ছবি দেখে সবাই তো বলিউড/ কলকাতা ইত্যাদি মুভি নিয়ে পড়ে থাকি। হয়তো গুনে গুনে কয়েকজন বাংলাদেশের ছবি দেখে বা পছন্দ করে।
★আমরা যে পুরোটাই ভারতের উপরাষ্ট্রে পরিনত হয়েছি তার সবচেয়ে বড় এবং কষ্ট দায়ক প্রমান হলো আমাদের বিজয় দিবসের দিন। এই দিনে মানুষ যখন নিজের দেশের ছবির গান বা দেশীয় গান বাজানো বাদ দিয়ে ভারতের গান গুলো বাজাই। কেন আমাদের দেশে কি ভালো কোনো শিল্পী নাই, ভারতের গান বাজানো লাগবে কেন!
★বিশেষ করে যখন ফেসবুকে শাকিবের ছবির পাশে শাহরুখের ছবি দিয়ে কে বেস্ট বলা হয় তখন আমরা নিজেদের নায়কের নাম না বলে বরং তাকে গালি দিয়ে শাহরুখের সাপোর্ট করি। কেন আমাদের দেশের নায়কের কি কোনো মূল্য নেই। আপনার বিশ্বাস না হলে বর্তমান যুগের ছেলেদের বাংলাদেশের বর্তমান নায়ক কে কে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে শাকিবের নাম ছাড়া আর কারো নাম বলতে পারবে না।
কিন্তু যদি ভারতের নায়কের কথা বলা হয় তাহলে খুব সহজেই বলতে পারবে!
★আবার যখন বলিউডের কোনো ছবি যেমন: সালমান, শাহরুখ, আমির, হৃতিক, প্রভাসের ছবি মুক্তি পায় তখন আমরা কতো আগ্রহ নিয়েই না মুভি গুলো দেখি, তার প্রশংসা করি। কিন্তু কখনোও কি ভুলে দেশীয় মুভিগুলো দেখি। হয়তো বা গুণে গুণে দুই একজন দেখে। যখন বাহুবালি ২ মুভিটি মুক্তি পায় তখন বাংলাদেশের মানুষের প্রশংসা দেখে আমি এক মুহুর্তের জন্য ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমি বাংলাদেশে রয়েছি। মনে হচ্ছিল আমি যেন ভারতের কোনো উপরাষ্টে বাস করছি। কোনো নিজ দেশের ছবি কি এতোটাই খারাপ যে আমাদের অন্যদেশের মুভি নিয়ে এত লাফালাফি করতে হবে।
★গায়কদের ক্ষেত্রেও বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশের দুই একজন ছাড়া আর কোনো গায়ক/গায়িকাদের চেনে না। শুধু বয়স্ক বা ২০/২৫/৩০ বা তার বেশি বয়সের মানুষরাই চেনে।
★বাংলাদেশ যখন কোনো মুভি তৈরি করে সেক্ষেত্রেও ভারতের সাহায্য নিতে হয়। ভারতের মুভি কপি করে নিজেরা মুভি করতে হয়। কেন নিজেদের কি কোনো মেধাই নেই।
★এছাড়া অর্থনীতির দিক দিয়েও আমরা ভারতের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের খাদ্যের প্রধান উৎসই ভারত। ভারত যদি আমাদের খাবার না দেয় তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
★এভাবে অনেক উদাহরনই দেওয়া যায় যে কিভাবে আমরা ভারতীয় উপরাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছি। যদি লেখা শুরু করি তাহলে হয়তো শেষ করা যাবে না। আর যদি ভারত সরকারের পরিকল্পনা মতো এভাবেই চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশ একদিন কোনো যুদ্ধ ঝামেলা ছাড়াই ভারতেে মানচিত্রেরর সঙ্গে মিশে যাবে। তখন ৩০ লক্ষ শহীদের স্বাধীন দেশ আর স্বাধীন থাকবে না হয়ে যাবে ভারতের পরাধীন একটি উপরাষ্ট্র।
★★★তাই সর্বশেষে বলতে চাই, আমরা স্বাধীন স্বাধীন বলে না চিল্লায়া নিজের দেশকে ভালোবাসতে শিখুন, দেশের শিল্পীরা হাজারো খারাপ মুভি করলেও তাদের অনুপ্রেরণা দিন যাতে তারা ভালো মুভি করতে উদ্ধুদ্ধ হয়। আর যদি এসব করতে না পারেন তাহলে হয়তো একদিন দেখবেন বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি আর বিশ্ব চেনে না। ভারতে যেতেও কোনো পাসপোর্ট লাগবে না। তখনি বুঝে নিবেন বাংলাদেশ নামের আর কোনো দেশ নেই, এখন সেটা ভারতের একটি উপরাষ্ট্র মাত্র। ★★★
Nice..onek sundor liksen
ReplyDelete